ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
লেটেস্ট নিউজ । Latest News

ইসলামের দৃষ্টিতে উপদেশ, কোরআন–হাদিসের আলোকে

ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দোয়া ও আমল



ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দোয়া ও আমল

ভূমিকম্প মহান আল্লাহর একটি নিদর্শন। তাঁর শক্তি, ক্ষমতা ও প্রভাবশালী কর্তৃত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। এতে মানুষের দুর্বলতা, হীনতা ও আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ পায়। তাই ভূমিকম্পসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা, তাঁর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা ও দোয়া করা মুস্তাহাব।

 

কোরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আমি তোমাদের আগের জাতিসমূহের কাছে বহু রাসুল পাঠিয়েছি। আমি তাদের ওপর ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগ ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা নম্র হয়ে আমার সামনে নতি স্বীকার করে। কিন্তু তারা বিনীত হলো না, তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল… আর তারা যখন উপদেশ ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে তারা যখন আনন্দে মেতেছিল, আমি হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম, আর তখন তারা হতাশ হয়ে গেল।”
—
সুরা আন’আম: ৪২–৪৪

এই আয়াতের আলোকে আলেমগণ বলেন—
ভূমিকম্প হলে ইস্তেগফার করা, দোয়া করা, তাওবা করা ও সদকা করা মুস্তাহাব।
যেমন সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় সালাত আদায় করাও মুস্তাহাব।

 

দুর্যোগ ও ঝড়বাতাসে নবী ﷺ–এর দোয়া

তীব্র বাতাস ও ঝড়ের সময় নবী করিম ﷺ এই দোয়া পড়তেন—

আরবি:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ও খাইরা মা ফীহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি;
ওয়া আউজুবিকা শাররাহা ওয়া শাররা মা ফীহা ওয়া শাররা মা উরসিলাত বিহি।

অর্থ:

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ চাই, এর মধ্যে যে কল্যাণ আছে তা চাই এবং যে কল্যাণের জন্য এটিকে পাঠানো হয়েছে তা চাই। আর আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, এর মধ্যে যে অনিষ্ট আছে তা থেকে আশ্রয় চাই এবং যে অনিষ্টসহ এটিকে পাঠানো হয়েছে তা থেকেও আশ্রয় চাই।
(
সহিহ মুসলিম)

ভূমিকম্পের জন্য আলাদা বিশেষ দোয়া রাসুল ﷺ থেকে নেই। তাই ঝড়-বাতাসের এই দোয়া ও অন্যান্য মাসনূন দোয়া পড়া বৈধ ও মুস্তাহাব।

 

প্রাকৃতিক বিপদে কোরআন–হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়া


১. হযরত ইউনুস (আ.)–এর দোয়া — বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া

আরবি:

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ:

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্‌-জালিমিন।

অর্থ:

তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র, মহিমান্বিত—আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
(
সুরা আম্বিয়া: ৮৭)

এ দোয়া বিপদ থেকে উত্তরণের আমল হিসেবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং আল্লাহর নিকট প্রিয়।

 

২. সকাল–সন্ধ্যার নিরাপত্তার দোয়া

নবী ﷺ বলেছেন—
“
যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় এ দোয়াটি তিনবার পড়বে, কোনো কিছুই তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।”

আরবি:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ:

বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্‌সামা’ই; ওয়া হুয়াস্‌সামিউল আলিম।

অর্থ:

আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আকাশ বা জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
(
আবু দাউদ, তিরমিজি)

 

ভূমিকম্পে করণীয় আমল

·         বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

·         তাওবা ও দুআ করা

·         সদকা করা

·         নফল সালাত পড়া

·         আল্লাহর মহিমা ও শক্তি স্মরণ করা

·         সকাল–সন্ধ্যার দোয়া নিয়মিত পড়া

·         নিজেকে নিরাপদ স্থানে রাখা (শরীরিক নিরাপত্তা)

বিষয় : বাংলাদেশ আল্লাহ দোয়া ভূমিকম্প কোরআন–হাদিস

আপনার মতামত লিখুন

লেটেস্ট নিউজ । Latest News

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দোয়া ও আমল

প্রকাশের তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

ভূমিকম্প মহান আল্লাহর একটি নিদর্শন। তাঁর শক্তি, ক্ষমতা ও প্রভাবশালী কর্তৃত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। এতে মানুষের দুর্বলতা, হীনতা ও আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ পায়। তাই ভূমিকম্পসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা, তাঁর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা ও দোয়া করা মুস্তাহাব।

 

কোরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আমি তোমাদের আগের জাতিসমূহের কাছে বহু রাসুল পাঠিয়েছি। আমি তাদের ওপর ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগ ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা নম্র হয়ে আমার সামনে নতি স্বীকার করে। কিন্তু তারা বিনীত হলো না, তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল… আর তারা যখন উপদেশ ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে তারা যখন আনন্দে মেতেছিল, আমি হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম, আর তখন তারা হতাশ হয়ে গেল।”
—
সুরা আন’আম: ৪২–৪৪

এই আয়াতের আলোকে আলেমগণ বলেন—
ভূমিকম্প হলে ইস্তেগফার করা, দোয়া করা, তাওবা করা ও সদকা করা মুস্তাহাব।
যেমন সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় সালাত আদায় করাও মুস্তাহাব।

 

দুর্যোগ ও ঝড়বাতাসে নবী ﷺ–এর দোয়া

তীব্র বাতাস ও ঝড়ের সময় নবী করিম ﷺ এই দোয়া পড়তেন—

আরবি:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ও খাইরা মা ফীহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি;
ওয়া আউজুবিকা শাররাহা ওয়া শাররা মা ফীহা ওয়া শাররা মা উরসিলাত বিহি।

অর্থ:

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ চাই, এর মধ্যে যে কল্যাণ আছে তা চাই এবং যে কল্যাণের জন্য এটিকে পাঠানো হয়েছে তা চাই। আর আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, এর মধ্যে যে অনিষ্ট আছে তা থেকে আশ্রয় চাই এবং যে অনিষ্টসহ এটিকে পাঠানো হয়েছে তা থেকেও আশ্রয় চাই।
(
সহিহ মুসলিম)

ভূমিকম্পের জন্য আলাদা বিশেষ দোয়া রাসুল ﷺ থেকে নেই। তাই ঝড়-বাতাসের এই দোয়া ও অন্যান্য মাসনূন দোয়া পড়া বৈধ ও মুস্তাহাব।

 

প্রাকৃতিক বিপদে কোরআন–হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়া


১. হযরত ইউনুস (আ.)–এর দোয়া — বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া

আরবি:

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ:

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্‌-জালিমিন।

অর্থ:

তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র, মহিমান্বিত—আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
(
সুরা আম্বিয়া: ৮৭)

এ দোয়া বিপদ থেকে উত্তরণের আমল হিসেবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং আল্লাহর নিকট প্রিয়।

 

২. সকাল–সন্ধ্যার নিরাপত্তার দোয়া

নবী ﷺ বলেছেন—
“
যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় এ দোয়াটি তিনবার পড়বে, কোনো কিছুই তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।”

আরবি:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ:

বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্‌সামা’ই; ওয়া হুয়াস্‌সামিউল আলিম।

অর্থ:

আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আকাশ বা জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
(
আবু দাউদ, তিরমিজি)

 

ভূমিকম্পে করণীয় আমল

·         বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

·         তাওবা ও দুআ করা

·         সদকা করা

·         নফল সালাত পড়া

·         আল্লাহর মহিমা ও শক্তি স্মরণ করা

·         সকাল–সন্ধ্যার দোয়া নিয়মিত পড়া

·         নিজেকে নিরাপদ স্থানে রাখা (শরীরিক নিরাপত্তা)


লেটেস্ট নিউজ । Latest News


কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত লেটেস্ট নিউজ